BIGtheme.net http://bigtheme.net/ecommerce/opencart OpenCart Templates
সংবাদ শিরোনাম
Home / প্রথম পাতা / আমার জীবন ও মুক্তিযুদ্ধ ঃ সাবেক পৌর মেয়র নায়েক (অব) সফিউল আলম

আমার জীবন ও মুক্তিযুদ্ধ ঃ সাবেক পৌর মেয়র নায়েক (অব) সফিউল আলম

সীতাকুণ্ড টাইমস ডেস্কঃ
সীতাকুণ্ড পৌরসভার সাবেক মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা নায়েক (অব) সফিউল আলম এর যুদ্ধের স্মৃতি ও তার জীবনি তোলে ধরা হল।

যুদ্ধকাল

২৩শে মার্চ ১৯৭১সালে বেলা ১০ঘটিকার সময় পাঞ্জাবী মেজর কামাল উদ্দিন খাঁনের নেতৃত্বে ১৪নং জেটিতে অস্ত্র খালাসে যাওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়। ষোলশহর রেল ক্রসিং-এ যাওয়ার পর বিভিন্ন মিলের শ্রমিকেরা রাস্তা ব্লক করে দেয় এবং যেতে না পেরে আমরা পুনরায় চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্টে ফিরে আসি। ২৫শে মার্চ ১৯৭১ রাত ৯ঘটিকার সময় চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্টে থাকা বাইশ শতের মত সেনাবাহিনীকে চট্টগ্রাম প্যারেড মাঠে জমায়েত করে এবং তৎকালীন পাঞ্জাবী জিওসি কর্নেল শিঘ্রি খাঁন আমাদেরকে বলেন যে, ‘‘যার যার নিকট অস্ত্র আছে তা অস্ত্রাগারে জমা দিয়ে দাও। যদি এ আদেশের পর কারোর নিকট অস্ত্র থেকে থাকে তাহলে আগামীকাল ২৬শে মার্চ ১৯৭১-এ গ্রেফতার করা হবে।’’ আমরা যারা পুরোনো ইন্সট্রাক্টর ছিলাম সবাই বুঝতে পারলাম যে, রাতে কোন একটা ঘটনা ঘটবে ও আমাদের উপর আক্রমণ হতে পারে! আমরা ১ থেকে ৭ প্লাটুনের দায়িত্বে থাকা ইন্সট্রাক্টর নায়েক ও হাবিলদার মিলে অস্ত্র ভান্ডারের দায়িত্বে থাকা নায়েক অজিউল্লা সাহেবের নিকট গিয়ে ৭জন ৭টি অস্ত্র চেয়ে নিলাম। ২৫শে মার্চ রাত ১১টা ১০মিনিটে আমাদের ক্যান্টনমেন্টে থাকা নিরস্ত্র বাইশ শত বাঙ্গালী সৈনিকের উপর পাকিস্তানী বর্বর হানাদার বাহিনীর সৈন্যরা আক্রমণ শুরু করে, এসময় আমরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যাই ও ভোর ৬ঘটিকার সময় আমি পাঞ্জাবী নায়েক শামছুল আলমকে গুলি করি। ২৬শে মার্চ পর্যন্ত আমাদের প্রায় বার শতকের মত নিরস্ত্র বাঙ্গালী সৈনিককে হত্যা করে। ২৬শে মার্চ সকাল ৮ঘটিকায় ক্যান্টনমেন্টের পশ্চিম পার্শ্বে একটি উঁচু পাহাড়ে গিয়ে আমরা বেঁচে যাওয়া সবাই জমায়েত হই। তাতে দেখা যায় বাইশ শত সৈনিকের মধ্যে আমিসহ প্রায় নয় শত থেকে এক হাজার জীবিত আছে। যাদের কাছে অস্ত্র ছিল তাদের মধ্যে আমরা পনের জনকে দেখতে পাই এবং তাদের মধ্যে সিনিয়র ছিল সুবেদার সিরাজুল হক। সুবেদার সিরাজ সাহেবের নেতৃত্বে আমরা সবাই চট্টগ্রাম ষোলশহর পলিটেকনিক্যাল কলেজের নিচে অবস্থান করি।
তখন ষোলশহর সিডিএ মার্কেটে ৮ম রেজিমেন্ট ছিল এবং ৮ম রেজিমেন্টের সেকেন্ড ইন কমান্ড ছিলেন মেজর জিয়াউর রহমান সাহেব। আমরা লোক মারফত তথ্য নিয়ে জানতে পারলাম যে, ঐ ৮ম বেঙ্গল রেজিমেন্টের কোন সৈনিক সেখানে নেই, তারা ২৫শে মার্চ রাতের মধ্যেই অন্যত্র চলে গেছে। ২৬শে মার্চ সারা রাত আমরা পলিটেকনিক কলেজের নিচে অবস্থান করি। এদিকে পাকিস্তানী বাবর নামক এক জাহাজ থেকে সারা রাত্রে চট্টগ্রামের উপর গোলাবর্ষণ করতে থাকে। ২৭শে মার্চ আমরা পাহাড়ে পাহাড়ে হাঁটতে হাঁটতে বিকাল ৩ঘটিকার সময় কর্নেলহাট বাজারের পশ্চিম পার্শ্বে একটি পুকুর পাড়ে জমায়েত হই। আমাদের সাথে এসে যোগদান করেন ক্যাপ্টেন ভূঁইয়া সাহেব ও তৎকালীন ইপিআর, পুলিশ, আনসারসহ দুই শতাধিক বাঙ্গালী সৈন্য বাহিনী। আমাদেরকে আলিম উল্লা চৌধুরীর বাড়ী হতে খাওয়ার ব্যবস্থা করেন ও খাওয়া-দাওয়ার পর সন্ধ্যা ৬টার সময় ২টি ট্রাকযোগে পাক্কা মছজিদ্দা আসি। পূর্বে পাহাড় ও পশ্চিমে সমুদ্র এ এলাকার জনসাধারনের সহযোগিতায় এখানে একটি ডিফেন্স বসাই। লোকের মুখে জানতে পারি যে, ছোট কুমিরা বাজারের মুখে আওয়ামিলীগের সভাপতি মামুন সাহেবের নেতৃত্বে গাছ ফেলে রোড ব্লক করা হয়েছে, এতে কুমিল্লা থেকে আসা পাকিস্তানী সৈন্যরা চট্টগ্রাম শহরে ঢুকতে না পেরে সেখানে অবস্থান করছে।
২৯শে মার্চ সকাল ৮ঘটিকার সময় পাক্কামছজিদ্দা-এ থাকা আমাদের ডিফেন্সের উপর পাকিস্তানী বাহিনী আক্রমণ চালায়। এতে আমরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যাই ও আমার সাথে থাকা দুই জন সৈন্য পাক্কা মসজিদের উত্তর পার্শ্বে একটি মাটির গুদাম ঘরে মৃত্যুবরণ করেন। আমরা বাকী সৈন্যরা কেউ পশ্চিম দিকে নদীর পাড়ে ও কেউ পূর্বে পাহাড়ের দিকে চলে যাই। এরপর রাস্তার ব্লক সরিয়ে পাকিস্তানী সৈন্যরা চট্টগ্রাম শহরের দিকে চলে যায়। আমি গুল আহাম্মদ জুট মিলের পশ্চিম পার্শ্বে আমার ছোট বোনের বাড়ীতে উঠি। অস্ত্রটি আমার বোনের বাড়ীতে রেখে পুনরায় পাক্কামসজিদ গিয়ে আমার যোদ্ধা সঙ্গী মৃত সৈন্যের দাফন করে অস্ত্র নিয়ে আমার নিজ বাড়ী সীতাকুন্ডে চলে আসি। রাত্রে বাড়ীতে থাকার পর সকাল বেলা সাথে থাকা অস্ত্র নিয়ে আরো ৪-৫জন সৈনিকসহ রামগড় স্কুলে গিয়ে উপস্থিত হই। ২-৩দিন রামগড় স্কুলে অবস্থানের পর ঐখানে মেজর জিয়াউর রহমান সাহেব, ক্যাপ্টেন মীর শওকত আলী সাহেব, ক্যাপ্টেন আব্দুল মতিন সাহেব ও ক্যাপ্টেন অলি আহাম্মদ সাহেবকে দেখতে পাই। মেজর জিয়াউর রহমান সাহেবের সাথে আমার পূর্ব পরিচয় ছিল। মেজর জিয়াউর রহমান রহমান সাহেবের নেতৃত্বে উল্লেখিত অফিসারসহ দুই শতাধিক সৈনিক, তারমধ্যে কিছু ইপিআর ও পুলিশও ছিল সবাই মিলে সীতাকুন্ড সরকারী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে এসে জমায়েত হই। নায়েক আবুল মুনছুরের নেতৃত্বে একটি গ্রুপকে নিয়ে কুমিরাতে পুনরায় ডিফেন্স বসানোর জন্য জিয়াউর রহমান সাহেব নির্দেশ দেন এবং আমাকে কিছু সৈন্য নিয়ে কেমিকেল ইন্ডাট্রিজের পার্শ্বে ডিফেন্স লাগানোর জন্য নির্দেশ দেন। নায়েক আব্দুর রউফকে সীতাকুন্ড হাসপাতালের পার্শ্বে ডিফেন্স লাগানোর জন্য নির্দেশ দেন। মেজর জিয়াউর রহমান সাহেব ও অন্যান্য অফিসারেরা প্রতিদিন আমাদের ডিফেন্স সমূহ তদারকি করেন। আমাদের এ সৈনিকদের খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা করেন মুরাদপুর নিবাসী নুরুল আলম চৌধুরী প্রকাশ কালু চেয়ারম্যান নিজের বাড়ীতে পাক করে নিজের গাড়ীতে বহন করে ডিফেন্স এবং হেড কোয়াটারে খানা সরবরাহ করেন। দীর্ঘ এক মাস আমরা ডিফেন্সে থাকার পর চট্টগ্রাম সেনানিবাস থেকে আসা পাকিস্তানী সৈন্যরা ভারী অস্ত্র দিয়ে আমাদের ডিফেন্সের উপর আক্রমণ চালায়, এতে নাম না জানা কয়েকজন সৈন্য নিহত হয়। আমরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যে-যেভাবে পেরেছি পুনরায় সীতাকুন্ড স্কুলে এসে জমায়েত হয়েছি। আমাদেরকে বহন করার দুইটি তৎকালীন শুভপুর বাসে করে নিয়ে উত্তর চট্টগ্রামের মীরসরাইস্থ মস্তাননগর হাসপাতালে পুনরায় ক্যাম্প স্থাপন করি। উক্ত ক্যাম্প স্থাপনে আমাদেরকে পুরাপুরি সহযোগিতা করেছেন ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ হোসেন সাহেব। মীরসরাইয়ের দক্ষিণে বাদামতলীতে একটি ডিফেন্স লাগাই ও বাদামতলীর দক্ষিণ পার্শ্বে ওয়াপদা অফিস সংলগ্ন আরেকটি ডিফেন্স লাগাই এবং এতে নেতৃত্ব দেন ক্যাপ্টেন অলি আহাম্মদ ও হাবিলদার ছিদ্দিকুর রহমান। সেখানে ৭-৮দিন অবস্থানের পর আমাদের ডিফেন্সের উপর পাকিস্তানী বাহিনী আক্রমণ চালায় এবং এতে হাবিলদার ছিদ্দিকুর রহমান সাহেব বুকে গুলিবিদ্ধ হন, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আমরা দু’জনে তাকে কাঁধে করে পশ্চিম দিকে এক বাড়ীতে উঠি এবং তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিই। সন্ধ্যার পর একটি বেবি ট্যাক্সি করে রামগড় স্কুলে নিয়ে যাই এবং ওপারে ইন্ডিয়ান সাবরুম নামক একটি হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে চলে আসি এবং তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেখানে রয়ে যান। মেজর জিয়াউর রহমান সাহেব বেশ কিছু সৈন্যকে একত্রিত করে শুভপুর ব্রীজের উত্তর পার্শ্বে দক্ষিণমুখী হয়ে ও পূর্ব দিকে ভারত ও পশ্চিম দিকে ভুরভুরি ঘাট বা ফেনী নদীর মুখ পর্যন্ত দক্ষিণমুখী হয়ে আমাদেরকে ডিফেন্স বসানোর নির্দেশ দেন। অপরদিকে পাকিস্তানী সৈন্যরা শুভপুর ব্রীজের দক্ষিণ পার্শ্বে উত্তরমুখী হয়ে ডিফেন্স বসায়। প্রতিদিন সকাল, সন্ধ্যা ও রাত্রে আমরা পাকিস্তানী সৈন্যের ব্যাংকারের উপর গুলি বর্ষন করি এবং পাকিস্তানী সৈন্যরাও আমাদের উপর গুলি বর্ষন করে। এভাবে ১৫-২০দিন সংঘর্ষ চলার পরও তারা যেহেতু ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যাতায়াত করতে পারতেছেনা তাই উত্তর দিকে ফেনী থেকে পাকিস্তানী সৈন্যরা এসে পিছন দিক থেকে আমাদের উপর আক্রমন চালায়, এতে আমাদের কিছু সৈন্য মারা যায়। বাকিরা পূর্বদিকে ভারতে চলে যায়।
গেরিলা যুদ্ধ
পাকিস্তানী বাহিনী কর্তৃক শুভপুর ব্রীজ এলাকায় আমাদের ডিফেন্সের উপর আক্রমণ করার পর আমরা ছত্রভঙ্গ হয়ে একেকজন একেক দিকে পলায়ন করে ভারতীয় বর্ডারে গিয়ে একত্রিত হই এবং ২-৩দিন পর মেজর জিয়াউর রহমান সাহেব ও ক্যাপ্টেন শওকত আলী সাহেবসহ অন্যান্য অফিসাররা ভারতীয় বর্ডারে আমাদের সাথে একত্রিত হন। আমি মেজর জিয়াউর রহমান সাহেবের সাথে পাকিস্তান কাকুল সেন্টারে কমান্ডু প্রশিক্ষন নিয়েছি বিধায় তিনি আমাকে বলেন যে, নায়েক সফি তুমি এক কমান্ডু গ্রুপ তৈরী কর। আমি মেজর জিয়াউর রহমান সাহেবের নির্দেশ অনুসারে নায়েক আবুল মুনছুর, নায়েক আব্দুর রউফ ও সিপাহী আবুল বশরকে নিয়ে মেজর জিয়াউর রহমান সাহেবের সাথে দেখা করি। মেজর জিয়াউর রহমান সাহেব আমাকে নির্দেশ দেয় যে, আরো কয়েকজন সেনাবাহিনী যোগাড় কর ও মীরসরাই, সীতাকুন্ড, ফটিকছড়ি এ তিন থানায় আরো যেসব নতুন মুক্তিযোদ্ধা প্রবেশ করেছে তাদের গেরিলা কমান্ডার হিসেবে তোমাকে দায়িত্ব দেওয়া গেল। তুমি মুক্তিযোদ্ধাদেরকে সার্বিক দিক নির্দেশনা, অপারেশন পরিচালনা ও বাঙ্গালী শত্রু রাজাকার, আল-বদরদের শায়েস্তা করবে। মেজর জিয়াউর রহমান সাহেবের নির্দেশে ভুরভুরি ঘাট হয়ে মীরসরাই এসে পৌঁছি। মীরসরাই বেড়ীবাঁধের পার্শ্বে এক বাড়ীতে অবস্থান করার পরদিন সীতাকুন্ডে এসে সৈয়দপুর ফখরুল ইসলামের বাড়ীতে উঠি এবং সেখানে কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধার সাথে সাক্ষাত হয় ও তাদের মধ্যে ছিলেন কমান্ডার খোরশেদ আলম। কমান্ডার খোরশেদ আলমের সাথে পরামর্শক্রমে কুমিরা টিবি হাসপাতালের পশ্চিম পার্শ্বে আওয়ামীলীগ নেতা ফোরক মিয়া ও হারেছ মিয়ার বাড়ীতে উঠি। সেখান থেকে সাহসী মুক্তিযোদ্ধাদেরকে সংগ্রহ করি ও সংগৃহীত মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ছিলেন হাবিলদার আওরঙ্গজেব, হাবিলদার আব্দুর রাজ্জাক ও পূর্ব থেকে আমার সাথে ছিলেন নায়েক আবুল মুনছুর, নায়েক আব্দুর রউফ ও সিপাহী আবুল বশর এবং পরে আরও আমার সাথে এসে যোগ দেয় আবুল হাশেম, সামছুল আলম, আবুল বশর, আব্দুল হাদি(রেনু ড্রাইভার), জালাল আহাম্মদ, জাহাঙ্গীর আলম ও মফিজুর রহমান। এ সব সেনাবাহিনী ও মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে একটি গেরিলা গ্রুপ তৈরী করি। এ গেরিলা গ্রুপের নেতৃত্বে ছিলাম আমি নায়েক অব: সফিউল আলম।
অপারেশনঃ প্রথম অপারেশন করি শাহ আলম নামক একজন মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যার মধ্য দিয়ে। তিনি ভারত থেকে প্রশিক্ষন নিয়ে বাংলাদেশে এসে সীতাকুন্ড এলাকার বিভিন্ন স্থানে ডাকাতি ও বিভিন্ন অপকর্ম শুরু করে। সে বাঁশ বাড়ীয়া বাজারের পশ্চিম পার্শ্বে এক বাড়ীতে ডাকাতি করে। ঐ বাড়ীর লোকজন এসে আমাকে বলার পর আমি উক্ত শাহ আলম-কে নিয়ে ঐ বাড়ীতে প্রমাণ করতে যাই এবং বাড়ীর লোকজন তাকে ডাকাত হিসেবে চিহ্নিত করে ও ডাকাতি প্রমাণিত হওয়ায় আমাদের গ্রুপ থেকে তাকে গুলি করে হত্যা করার সিদ্ধান্ত দেন। তখন আমি তাকে এক পাশে টেনে নিয়ে গুলি করে হত্যা করি। এরপর আমরা গোপ্তাখালী নায়েক আবুল মুনছুরের বাড়ীতে চলে যাই। নায়েক আবুল মুনছুরের ছোট ভাই আবুল কালাম বা কালাম চেয়ারম্যান আমাদেরকে ও পূর্বে আসা মুক্তিযোদ্ধাদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করেন। কালাম চেয়ারম্যানের বাড়ীতে ২/৩দিন অবস্থান করার পর নড়ালিয়ায় দেলোয়ারের বাড়ীতে উঠি এবং সেখানে দুপুরে খেতে বসলে এক পঙ্গু মহিলাকে দু’জন লোক ঝুঁড়িতে বসাইয়া কাঁধে করে ঐ বাড়ীতে প্রবেশ করে, এতে তাদের প্রতি আমাদের সন্দেহ হলো। তাদের একজনকে আমি ও অন্য জনকে নায়েক আব্দুর রউফ কিছু দূরে নিয়ে জিজ্ঞেস করলে তারা জানায় যে, কেমিক্যাল মিলের ভিতর পাঞ্জাবী বাহিনী ক্যাম্প স্থাপন করেছে, তারা টাকা দিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের তথ্য দেওয়ার জন্য আমাদেরকে পাঠিয়েছে, তারা আরো বলেন যে, তাদের মত আরও ৭/৮জন লোক শুকলালহাট বাজারের ভিতর তফছির ছড়া ও তাবিজ বিক্রেতা লোক আছে। তাদের থেকে এ স্বাকীরোক্তি আদায় করার পর তারা তিন জনকে বেঁড়ীবাঁধে নিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়।
একই দিন রাত ১১-১২টার সময় শুকলালহাট বাজার ঘেরাও করে ঐ ৯জন লোককে আটক করি ও তাদেরকে পশ্চিমে বেড়ীবাঁধে নিয়ে যাই ও তাদের থেকে স্বাকীরোক্তির পর নৌকায় উঠিয়ে সমুদ্রের মাঝে নিয়ে পানিতে ফেলে হত্যা করা হয়। এতে আমরা ঐ স্থান ত্যাগ করে সুলতানা জুট মিলের পশ্চিম পার্শ্বে ভূলাই বাড়ীতে উঠি।
দু-এক দিন ঐ বাড়ীতে অবস্থানের পর বার আউলিয়া মাজারের রাজাকার খাদেম-কে হত্যা করার জন্য রওয়ানা হই। কুমিরা ঘাটঘরে পৌঁছলে দেখি ২জন লোক আমাদেরকে বলে যে, টর্চলাইট বন্ধ করুন, আমরা আপনাদের লোক, আমরা টর্চলাইট বন্ধ করার সাথে সাথে তারা আমাদের উপর এলোপাতাড়ি গুলি বর্ষন শুরু করে, আমরাও পাল্টা গুলি ছুড়লে তারা পাশে খালের পানিতে ডুবে যায়। আমরা ভাবলাম তারা হয়ত মারা গেছে, অনেক খুঁজাখুঁজির পর না পেয়ে আমরা ফোরক মিয়া ও হারেছ মিয়া এ দু’ভাইয়ের বাড়ীতে চলে যাই এবং সকাল বেলা জানতে পারি যে, একটা মৃত লোক ব্রীজের নিচে পড়ে আছে। আমরা গিয়ে দেখি যে, সে একজন মুক্তিযোদ্ধা ও তার বাড়ী মহালঙ্কা এবং আপসোস করে নিজেরা বললাম তারা হয়ত ভয়ে আমাদেরকে গুলি ছুঁড়েছে। তার সাথে আরেকজন মুক্তিযোদ্ধা ছিল সে পালাইয়া গিয়েছে। যে মুক্তিযোদ্ধা মারা গিয়েছে তার নাম আবদুল জলিল এবং তার সাথে ছিল সামছুর রহমান নামে আরেক মুক্তিযোদ্ধা, যা পরে মুক্তিযোদ্ধাদের নিকট থেকে জানতে পারি।
এরপর আমরা কুমিরা থেকে বাড়বকুন্ড বাজারের পশ্চিম পার্শ্বে ভাইস চেয়ারম্যান ছাবের আহাম্মদের বাড়ীতে উঠি এবং ঐ বাড়ীতে ২দিন থাকার পর লোক মুখে জানতে পারি যে, বাড়বকুন্ড বাজারের পশ্চিম পার্শ্বে তেলী বাজারে একটি দোকানে দরজা বন্ধ করে ভিতরে কয়েকজন বিহারী ও সাথে কয়েকজন রাজাকার জুয়া খেলতেছে। আমরা ঐ দোকানটি ঘেরাও করি এতে তারা আমাদের উপস্থিতি টের পেয়ে দৌঁড়াদৌঁড়ি শুরু করে এবং এক পর্যায়ে আমরা গুলি করলে দুই জনই মারা যায়। এরা দুই জনই বিহারী ও বাড়বকুন্ড মোজাহিদ ক্যাম্পের সদস্য। ঐ সময় বিহারীরা পাকিস্তানী বাহিনীর পক্ষে কাজ করতেন এবং তাদের নাম ছিল মিলিশিয়া বাহিনী।
সেখান থেকে দুই দিন পর আমরা চলে যাই সুলতানা জুট মিলের পার্শ্বে বেড়ীবাঁধ সংলগ্ন জাহাঙ্গীরের বাড়ীতে। সেখানে অবস্থানরত অবস্থায় এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে আমাদেরকে জানান যে, বাঁশবাড়ীয়ার পূর্ব পার্শ্বে রাবার বাগানে ৮-১০টি বিল্ডিং ঘর রয়েছে এবং সে বাগানের মালিক হলেন কলিকাতার লোক ও মাড়োয়ারী। উক্ত বাগানের ম্যানেজার ধর্মচরণ ত্রিপুরার সহযোগীতায় জহুর উল্যা বলী, তার ছেলে ও তার ভাই মিলে বিভিন্ন এলাকা থেকে মহিলাদেরকে এনে উক্ত ঘরের মধ্যে বন্ধী করে পাক বাহিনী দ্বারা ঐ মেয়ে লোকদের সাথে অপকর্মে লিপ্ত করাত। আমরা এ খবর পেয়ে ঐদিন পাকিস্তানী সৈন্যের অনুপস্থিতিতে ঘরটি ঘেরাও করি এবং ম্যানেজার ধর্ম চরনকে ধরে ফেলি। তাকে রেল লাইনে এনে বন্দুকের ব্যানেট চার্জ করে রেল লাইনের পাশে ফেলে দিয়ে জহুর উল্যা বলীর বাড়ীতে চলে যাই এবং পরে জানতে পারি সে বেঁচে গেছে।
জহুর উল্যা বলী, তার ছেলে ও ভাইকে হত্যা করা হয়। এবং তারা তিন জনই রাজাকার ছিলেন। ঐ রাত্রে আমরা বাঁকখালী দোয়াজী বাড়ীতে চলে যাই এবং সেখানে কয়েক দিন অবস্থান করার পর লোকের মুখে শুনতে পাই যে, মীরেরহাট বাজারের পূর্ব পার্শ্বে মুক্তিযোদ্ধা বিরোধী ও মুসলিম লীগের সুরুজ মিয়া চৌধুরীর বাড়ী, আমরা গিয়ে তার বাড়ী ঘেরাও করি ও ঘরে তাকে না পেয়ে আমরা পূনরায় দোয়াজী বাড়ীতে চলে যাই। দোয়াজী বাড়ীতে ৩-৪দিন থাকার পর শেখেরহাট বাজারের পশ্চিম পার্শ্বে মনিরুজ্জামান মেম্বারের বাড়ীতে আসি এবং ঐ বাড়ীতে থাকা অবস্থায় জানতে পারি যে, মনিরুজ্জামান ও রহিম উল্যা নামক এ দুব্যক্তি পাকিস্তানী সৈন্যদের সহযোগীতা করছে। এদের চলা ফেরায় আমরাও সন্দেহ পোষণ করি এবং সেখান থেকে আমরা সৈয়দপুর মিছির আহাম্মদের বাড়ীতে উঠি।
মিছির আহাম্মদের বাড়ীতে উঠার পর আমাদের নিকট খবর আসে যে, এম.এম. জুট মিলের একজন পাঞ্জাবী দারোয়ান রেল লাইনের পার্শ্বে বসবাসরত এক গরীব লোকের বাড়ীতে গিয়ে তার বিবাহিত মেয়ের উপর সব সময় অপকর্মে লিপ্ত হতো ও অত্যাচার করত। এতে আমরা ক্ষুদ্ধ হয়ে ঐ এলাকা ঘেরাও করে পাঞ্জাবী দারোয়ানকে হত্যা করে দ্রুত ঐ স্থান ত্যাগ করি।
সেখান থেকে আবুল কালাম চেয়ারম্যানের বাড়ীতে চলে যাই এবং তার বাড়ীতে সবসময় অনেক মুক্তিযোদ্ধা থাকতেন। আবুল কালাম চেয়ারম্যানের বাড়ীতে থাকা অবস্থায় আমি বিকাল বেলা ১টি লুঙ্গি কেনার জন্য বাংলা বাজারে আসি এবং আমিরুজ্জামান সওদাগরের দোকানে লুঙ্গি কিনতে যাই। তখন ইউনিফরম পরা হাফেজ নামক বন্দুকধারী একজন রাজাকার সীতাকুন্ডের দিকে আসছিল, তখন ছোট্ট একটি ছেলে গিয়ে আমাকে বলে যে, আপনি কি মুক্তিযোদ্ধা? মুক্তিযোদ্ধা হলে এ রাজাকারকে ধরেননা কেন? ছেলেটির কথা শুনে রাজাকার হাফেজ কে দাঁড়াতে বলি ও আমার সাথে থাকা একটি ছুরি বের করি; তখন পার্শ্বে টেরিয়াইলের মদিন উল্যাহ নামক এক লোক আমাকে বলেন যে, আমি মুক্তিযোদ্ধা, এতে আমি মদিন উল্যাকে বলি, আমাকে সাহায্য কর ভাই এবং আমরা দু’জনে রাজাকারকে ধরে ফেলি এবং সাথে থাকা বন্দুকটি নিয়ে নিই ও তাকে বেড়ীবাঁধে নিয়া গুলি করে মেরে ফেলি। পুনরায় আবুল কালাম চেয়ারম্যানের বাড়ীতে চলে যাই।
সেখানে অবস্থানরত অবস্থায় আমাদের এক মুক্তিযোদ্ধা এসে আমাকে বলেন যে, মহালঙ্কার ডাক্তার এখলাছ সাহেবের বাড়ী সংলগ্ন একটি বাড়ীতে মুক্তিযোদ্ধারা অবস্থান করতেছে এবং ঐ বাড়ীতে গিয়ে এ দেশীয় রাজাকার-আলবদররা বাড়ীটি ঘেরাও করে এলোপাতাড়ি গুলি বর্ষণ করতেছে। রাজাকারদের গুলিতে সীতাকুন্ড ষ্টেশন মাষ্টারের ছেলে টিপু নামে আমাদের একজন মুক্তিযোদ্ধা নিহত হন। এ খবর শুনার পর আমি ও আমার সাথে থাকা কমান্ডো গ্রুপ মহালঙ্কা গিয়ে উপস্থিত হই এবং পরদিন কাশেম নামক এক রাজাকারকে হত্যা করে ঐ এলাকা থেকে চলে আসার সময় শেখের হাট বাজারের পশ্চিম পার্শ্বে খুব ভোরে ভোরে মনিরুজ্জামান মেম্বারের বাড়ী ঘেরাও করি। মনিরুজ্জামান মেম্বারকে ধরে এনে শেখের হাট স্কুুলের দক্ষিণ পার্শ্বে এনে হত্যা করা হয়।
এরপর আমরা পশ্চিম সৈয়দপুর হুয়ানিয়ার বাড়ীর আবুল হাশেমের কাচারীতে চলে আসি । ঐ বাড়ীতে দুই দিন থাকার পর বাঁশবাড়ীয়া রাবার বাগানে প্লাটুন কমান্ডার আবু তাহের বিএসসি’র নেতৃত্বে স্থাপনকৃত ক্যাম্পে আমার গেরিলা গ্রুপকে নিয়ে উপস্থিত হই। ঐ ক্যাম্পে থাকা অবস্থায় দুই দিন পর সুলতানা জুট মিলের উত্তর পার্শ্বে রেলওয়ের একটি ব্রীজ বোম্পিং করে উড়িয়ে দিয়ে সাথে সাথে রাবার বাগান ত্যাগ করে আমরা পূর্ব পার্শ্বে একটি টিলাতে ওঁতপেতে বসে থাকি। সকাল বেলা পাকিস্তানী সৈন্যরা চট্টগ্রাম শহর থেকে এসে ব্রীজটি মেরামত শুরু করে এবং উক্ত ব্রীজ থেকে আমাদের অবস্থানকৃত পূর্ব পার্শ্বের টিলার দুরত্ব হলো মাত্র ৫০০ গজ প্রায়। আমরা দেখতেছি যে, পাকিস্তানী সৈন্যরা ব্রীজটি মেরামত করার জন্য জমায়েত হওয়ার পর আমরা সবাই এক সাথে গুলি বর্ষণ শুরু করি। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো! আমাদের তের জনের তেরটি অস্ত্র থেকে একটি গুলিও বের হয়নি এবং আমরা অবাক হয়ে পূর্ব দিকে পাহাড়ে পাহাড়ে এক মাইল দূূরে চলে যাই। গভীর জঙ্গলে গিয়ে একটি পাহাড়ী ছড়াতে গিয়ে অস্ত্র গুলো পরীক্ষা করে দেখি যে, সব অস্ত্র ঠিক আছে এবং গুলিও বের হচ্ছে।
সারাদিন ঐ পাহাড়ে অবস্থান করে সন্ধ্যার সময় অন্য পাশ দিয়ে গ্রামে নেমে আসি। রাত্রে এলাকায় ঘুরাফেরা করার পর আবার বাঁশবাড়ীয়া রাবার বাগানে আমাদের ক্যাম্পে চলে যাই। সকাল ১০টার সময় প্রায় এক শতের মত পাকিস্তানী সৈন্য হাত বাঁধা অবস্থায় নুরুল আলম নামে একজন মুক্তিযোদ্ধাকে নিয়ে আমাদের ক্যাম্পের দিকে আসছে। তখন আমাদের ক্যাম্পের দায়িত্বরত একজন মুক্তিযোদ্ধা আমাদেরকে বলেন যে, ভাই পাকিস্তানী সৈন্যরা আসতেছে! আপনারা সরে যান। আমরা সাথে থাকা অস্ত্র নিয়ে পূর্ব দিকে গভীর জঙ্গলে চলে যাই ও সারাদিন ঐ জঙ্গলে থাকার পর সন্ধ্যার সময় আবার নেমে আসি।
গুলিয়াখালী প্লাটুন কমান্ডার নুর আহাম্মদের বাড়ীতে গিয়ে অবস্থান করি। সেখানে দুই দিন অবস্থানকালীন জানতে পারলাম যে, বাক্য দোষী বি.এ ফয়েজ উল্যা সীতাকুন্ড বাজারের দক্ষিণ পার্শ্বে তার নিজস্ব স-মিলে বসে মুক্তিযোদ্ধাদেরকে গালিগালাজ করতেছে। এ কথা শুনে আমার সাথে থাকা দু’জন মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হাদি(রেনু) ও জালাল আহাম্মদকে সাথে নিয়ে আমি স-মিলে উপস্থিত হই। সেখানে বি.এ ফয়েজ উল্যাকে না পেয়ে পূনরায় গুলিয়াখালী চলে যাই। গুলিয়াখালী যাওয়ার পর আবদুল হাদি (রেনু) আমাকে বলেন যে, আমি গিয়ে বি.এ ফয়েজ উল্যাকে পাই কিনা দেখি; এতে তিনি নিজে একাই চলে যান ও মুরাদপুর ও ফকিরহাট বাজারের মাঝামাঝি রাস্তায় বি.এ ফয়েজ উল্যার সাথে আবদুল হাদির দেখা হয় এবং সাথে সাথে আবদুল হাদি তাকে তিন রাউন্ড গুলি করলে বি.এ ফয়েজ উল্যা মাটিতে লুটিয়ে পড়ে, এতে আবদুল হাদি (রেনু) সেখান থেকে দ্রুত গুলিয়াখালীতে আমাদের ক্যাম্পে চলে আসে।
গুলিয়াখালী থেকে আমরা ক্যাম্প পরিবর্তন করে বাঁকখালী দোয়াজী বাড়ীত চলে যাই ও দোয়াজী বাড়ীতে তিন-চার দিন অবস্থানের পর একদিন সন্ধ্যা বেলা ছাদাকাৎ উল্লা নামক একজন মুক্তিযোদ্ধা আমাকে বলেন যে, বাড়বকুন্ড কমিউনিটি সেন্টারের মধ্যে বাড়বকুন্ড ৫নং ইউপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে চেয়ারম্যান মফিজুর রহমান ভূঁইয়ার সাথে ৭-৮জন রাজাকার অবস্থান করতেছে। আমি ও থানা কমান্ডার ইঞ্জিনিয়ার ইউছুফ সালাউদ্দিন, প্লাটুন কমান্ডার আবু তাহের বি.এস.সি, প্লাটুন কমান্ডার নুর আহাম্মদ ও অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধারাসহ আমার সাথে থাকা কমান্ডো গ্রুপকে নিয়ে কমিউনিটি সেন্টার ঘেরাও করি। রাত আনুমানিক ১টা থেকে ২টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে তাদেরকে ধরে ফেলতে সক্ষম হই। চেয়ারম্যান ও রাজাকারদের হাত বেঁধে পশ্চিম দিকে বেড়ীবাঁধে নিয়ে যাই। বেড়ীবাঁধে যাওয়ার পর দেখি যে, চেয়ারম্যান মফিজুর রহমানের বড় ছেলে মুক্তিযোদ্ধা হারুন ভূঁইয়া ও মেয়ের জামাই সেখানে উপস্থিত হয়েছে। তাদের উপস্থিতিতে আমি ও থানা কমান্ডার ইঞ্জিনিয়ার ইউসুফ সালাউদ্দীন; চেয়ারম্যান মফিজ সাহেবকে বলি যে, চাচা আপনার ছেলে ও জামাতা মুক্তিযোদ্ধা, তারা আমাদের সাথে আছে। আপনাকে আমরা নিয়ে ভাল একটি জায়গাতে রাখবো এবং আপনি আমাদের জন্য দোয়া করবেন। এ কথা বলার সাথে সাথে তিনি জয় বাংলার সম্পর্কে, মুক্তিযোদ্ধাদের সম্পর্কে, শেখ মুজিব সম্পর্কে ও ইন্দিরাগান্ধীর সম্পর্কে অশ্লিল ভাষায় গালি-গালাজ শুরু করে। এ রকম আট-দশ বার গালি-গালাজ করার পর আমরা তার ছেলে মুক্তিযোদ্ধা হারুন ভূঁইয়া ও জামাতাকে জিজ্ঞেস করি যে, এখন তাকে কি করা যায়? প্রতিত্তোরে ছেলে মুক্তিযোদ্ধা হারুন ভূঁইয়া ও জামাতা বলেন যে, মুক্তিযোদ্ধার আইনে যা করার তাই করেন। আমরা মুক্তিযোদ্ধারা থানা কমান্ডার ইঞ্জিনিয়ার ইউসুফ সালাউদ্দিনকে নিয়ে একপাশে গিয়ে আলোচনা করি এবং তার নির্দেশে চেয়ারম্যান ও সাত জন রাজাকারকে গুলি করে হত্যা করে আমরা চলে যাই। এরপর বাঁশবাড়ীয়া সিকদার বাড়ীতে গিয়ে অবস্থান করি এবং সেখানে পূর্ব থেকে আরও মুক্তিযোদ্ধা থাকতেন।
সেখানে তিন দিন অবস্থানের পর আমার গেরিলা গ্রুপকে নিয়ে ছোট কুমিরা স্কুলের পশ্চিম পার্শ্বে রাজাকার মমতাজের বাড়ী ঘেরাও করি এবং রাজাকার মমতাজকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এর পরদিন রাত আনুমানিক ১১টার সময় কুমিরা হাসপাতালের রাস্তার মাথায় অবসরপ্রাপ্ত সেনাবাহিনী রাজাকার জেবল হোসেন প্রকাশ জেবু রাজাকারকে রাস্তার উপর গুলি করে হত্যা করা হয় এবং তাকে হত্যা করে কুমিরা থেকে সুলতানা জুট মিলের পূর্ব পার্শ্বে পাহাড়ের ভিতর আমাদের একটি অস্থায়ী ক্যাম্প ছিল সেখানে গিয়ে উঠি। মাঝে মাঝে ঐ ক্যাম্প থেকে নেমে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে পাঞ্জাবী সৈনিকদের বহনকারী গাড়ীর উপর আক্রমণ করি।
এভাবে দশ-পনের দিন অতিবাহিত হওয়ার পর ভারত থেকে মিত্র বাহিনী তথা ভারতীয় সৈন্য বাহিনী চলে আসে। এতে আমাদের সাহস বেড়ে যায় এবং আমরাও মিত্র বাহিনীর সাথে যোগদান করে পূর্বে কুমিরা টিবি হাসপাতাল থেকে পশ্চিমে ঘাটঘর পর্যন্ত পাকিস্তানী সৈন্যদের সাথে মুখোমুখি যুদ্ধে লিপ্ত হই। এতে পাকিস্তানী সৈন্যরা পিছু হটে চট্টগ্রাম শহরে ঢুকে পড়ে ও মিত্র বাহিনীরাও তাদের পিছু পিছু ধাওয়া করে। সেখান থেকে আমি আমার বাহিনী নিয়ে সীতাকুন্ড চলে আসি, এভাবে যুদ্ধজীবন কেটে গেল কয়েক মাস এবং ১৬ ডিসেম্বর’১৯৭১-এ দেশ স্বাধীন হয়ে যায়। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর পরই মুক্তিযোদ্ধারা সবাই মিলে কিছু রাজাকার, আল-বদরকে ধরে নিয়ে প্রথমে সীতাকুন্ডের পশ্চিম পার্শ্বে ষ্ট্যান্ডার্ড ল্যাবরেটরীতে বন্দী করে এবং ল্যাবরেটরীতে জায়গার সংকুলান না হওয়ায় পরবর্তীতে সীতাকুন্ড বালিকা বিদ্যালয়ে স্থানান্তর করে।

পুন:সেনাবাহিনীতে যোগদান

দেশ স্বাধীন হওয়ার ২০-২৫দিন পর তৎকালীন মেজর রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে চট্টগ্রাম কলেজে ১৯নং রেজিমেন্ট গঠন করা হয়। পূনরায় আমি ১৯নং রেজিমেন্টের ২নং কোম্পানীর হাবিলদার মেজর এর দায়িত্ব পালন করি।
সেনাবাহিনীর চাকুরী হতে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি প্রদান ও প্রগতি ইন্ডাষ্ট্রিজ-এ চাকুরী
৩১শে ডিসেম্বর ১৯৭৪সালে আমি স্বেচ্ছায় সেনাবাহিনীর চাকুরী হতে অব্যাহতি প্রদান করি এবং আমার ঐ রেজিমেন্টের কমান্ডার ছিলেন তৎকালীন বিগ্রেডিয়ার মীর শওকত আলী। ১৯৭১সালে তিনি ও আমি একসাথে যুদ্ধ করার সুবাধে সু-সম্পর্ক গড়ে উঠে এবং এতে তিনি ০১/০১/১৯৭৫ইং সালে বাড়বকুন্ডস্থ প্রগতি ইন্ডাট্রিজ-এ আমাকে সিকিউরিটি সিফটিং ইনচার্জ হিসেবে চাকুরীর ব্যবস্থা করে দেন।

কাদেরিয়া বাহিনী গঠন

১৫ই আগষ্ট ১৯৭৫-এ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্ব-পরিবারে হত্যা হওয়ার পর ১৬ই আগষ্ট রাত আনুমানিক ২ঘটিকায় সীতাকুন্ড থানা পুলিশ আমার বাড়ী ঘেরাও করে এবং আমার বাড়ীতে অস্ত্র খুঁজিতেছে এমন বলে আমার ঘরের সব কিছু তছনছ করে ফেলে এবং আমাকে না পেয়ে আমার মা-বাবাকে অশ্লীল ভাষায় গালাগালি করে। ঐ রাতে আমি চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে প্রগতি ইন্ডাট্রিজের হেড অফিসে ডিউটিরত ছিলাম এবং ১৭ই আগষ্ট সকাল আট ঘটিকার সময় আমার জেঠাত ভাই বীর মুক্তিযোদ্ধা দ্বীন ইসলাম আমাকে অফিসে গিয়ে এ সব ঘটনা বিস্তারিত জানায় এবং আমি তাকে সাহস যুগিয়ে চা-নাস্তা করিয়ে বাড়ীতে চলে যাওয়ার জন্য বিদায় করিয়ে দিই। ১৭ই আগষ্ট সাবেক চট্টগ্রাম সিটি মেয়র এ.বি.এম. মহিউদ্দীন চৌধুরী আমাকে ও সিনিয়র আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দকে চট্টগ্রাম কমার্স কলেজের হল রূমে যাওয়ার জন্য বলেন, রাত ১০ঘটিকার সময় মহিউদ্দিন চৌধুরী ও আরও দুই শতের মত নেতৃবৃন্দ একত্রিত হই। উপস্থিত সবাইকে মহিউদ্দীন চৌধুরী বলেন যে, বঙ্গবন্ধুকে স্ব-পরিবারে হত্যা করা হয়েছে এবং বঙ্গবন্ধুর খুনিরা বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সকল নেতৃবৃন্দকে হত্যা করতে পারে, এখন আপনাদের মতামত কি? এতে আমরা সবাই একবাক্যে মহিউদ্দীন চৌধুরীকে বলি যে, আপনি যে সিদ্ধান্ত দিবেন আমরা সবাই আপনার সাথে একমত পোষন করবো। তখন তিনি আমাদেরকে বলেন যে, আজ রাতের মধ্যেই আমরা ভারতে চলে যাব। আমরা সবাই একমত পোষন করলে মেয়র মহিউদ্দীন চৌধুরী আমাদের সবার খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা করে আমাদেরকে নিয়ে কদমতলীতে ৪টি ট্রাকের উপর উঠিয়ে দেন এবং উক্ত ট্রাকে করে মেয়র মহিউদ্দীন চৌধুরী সহ কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে একটি রাইচ মিলে গিয়ে উপস্থিত হই। ঐ রাইচ মিলের মালিক ছিলেন কুমিল্লা জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মো: হারুন সাহেব। তিনি আমাদেরকে নিয়ে বাংলাদেশ বর্ডার ক্রস করে ভারতের রাধানগর বিশ্বম্বর দেবনাথের বাড়ীতে নিয়ে যান। সে বাড়ীতে নাস্তা-পানি করার পর ১। আমি নায়েক অব: সফিউল আলম ২। এ্যাডভোকেট ইউসুফ সালাউদ্দীন হারুন ৩। জাহাঙ্গীর চেয়ারম্যান ৪। দিদারুল আলম চেয়ারম্যান ৫। আবুল হোসেন ৬। মোস্তফা ৭। জয়নাল আবেদীন ৮। মোজাম্মেল হক সহ প্রায় ২৫-৩০জনকে রাধানগর বিশ্বম্বর দেবনাথের বাড়ীতে রেখে মেয়র মহিউদ্দীন চৌধুরী সাথে ১৭০জনের মত লোক নিয়ে আগড়তলা চলে যান। তখন ভারতের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ইন্দিরাগান্ধী এবং তৎকালীন কলিকাতার মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন জ্যোতি বসু। মেয়র মহিউদ্দীন চৌধুরী জ্যোতি বসুকে নিয়ে তৎকালীন ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরাগান্ধীর সাথে যোগাযোগ করে আমাদের থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা করে নেন। এভাবে এক মাস অতিবাহিত হওয়ার পর মেয়র মহিউদ্দীন চৌধুরী বঙ্গবীর কাদের ছিদ্দিকীর সাথে যোগাযোগ করে কাদেরিয়া বাহিনী নামক একটি বাহিনী গঠন করেন। ঐ বাহিনীর প্রধান ছিলেন বঙ্গবীর কাদের ছিদ্দিকী। এ কাদেরিয়া বাহিনীকে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট বর্তমান এ ছয়টি বিভাগে ভাগ করা হয় এবং একেকটি বিভাগকে একেকটি জোনে পরিণত করা হয়। আমাদের চট্টগ্রাম জোনের প্রধান ছিলেন মহিউদ্দীন চৌধুরী। তিনি প্রতিটি জেলাতে একজন করে জেলা প্রধানের দায়িত্ব দেন। চট্টগ্রাম জেলার দায়িত্বে ছিলাম আমি নায়েক (অব:) সফিউল আলম। ভারতের আগড়তলা হতে মাঝে মধ্যে আমি ও আরো কয়েকজন কাদেরিয়া বাহিনী নিয়ে চট্টগ্রামের বিভিন্ন থানায় থানায় কাদেরিয়া বাহিনীর সদস্য সংগ্রহ করতে আসতাম। এভাবে প্রায় দুই বছর যাবৎ ভারতে আসা-যাওয়া অবস্থায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরাগান্ধী ভারতের লোকসভা নির্বাচনে মূরারজি দেশাইয়ের সাথে পরাজিত হয়ে যায়। মূরারজি দেশাই ক্ষমতা গ্রহণের পর ভারতে থাকা আমাদের কাদেরিয়া বাহিনীর প্রায় চল্লিশ হাজার সদস্য-কে ভারত সরকারের দেওয়া থাকা-খাওয়ার খরচ বন্ধ করেন দেন।
ভারতের নতুন প্রধানমন্ত্রী মূরারজি দেশাই আমাদের থাকা-খাওয়া বন্ধ করে দেওয়ায় আমরা নিরুপায় হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করা শুরু করি। তখন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ছিলেন মেজর জিয়াউর রহমান সাহেব। তিনি আমাদের এ কাদেরিয়া বাহিনীর উপর গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী করলে পুলিশ আমাদেরকে হন্যে হয়ে গ্রেফতার করা শুরু করে। সর্বপ্রথম গ্রেফতার করা হয় দিদারুল আলম ও ছাত্রলীগ নেতা মো: ইউনুছসহ আরো অসংখ্য কাদেরিয়া বাহিনীর সদস্যকে।
বন্দী জীবন
১৮জুন ১৯৮০সালে চট্টগ্রামস্থ ভেলুয়ারদিঘীর পাড় থেকে আমাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার করে জেলখানায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং সাথে সাথে সবচেয়ে ভারী একটি ডান্ডাভেরী আমার পায়ে লাগিয়ে দেয়া হয়। চট্টগ্রাম জেলাখানায় ৪মাস রাখার পর আমাকে কুমিল্লা জেলখানায় স্থানান্তর করা হয়। কুমিল্লা জেলখানায় তিন মাস থাকার পর রাজশাহী জেলখানায় পাঠিয়ে দেয়া হয় এবং রাজশাহী জেলখানায় চার-পাঁচ মাস থাকার পর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠিয়ে দেয়া হয়। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আমাকে রাখা হয় ছয়সেল নামক একটি খুবই কষ্টদায়ক সেলে; যেখানে থাকতেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। উক্ত সেলে পূর্বে থেকে ছিলেন সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ ছিদ্দিকী। প্রায় ছয় মাস পর লতিফ ছিদ্দিকী জামিনে চলে গেলে আমি আরও দেড় বছর ঐ সেলে থাকি এবং দেড় বছর পর আমাকে চট্টগ্রাম কারাগারে নিয়ে আসা হয়। আমার ভাগ্যে এমন ছিল যে, আমি যতদিন জেলে ছিলাম ততদিন সেলে ছিলাম। সব চেয়ে ভারী ডান্ডাভেরী লাগানো অবস্থায় ছিলাম এবং যার যন্ত্রণা আজও মাঝে মাঝে আমার পায়ে অনুভূত হয়। আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ দাঁড় করিয়ে ২২টি মামলা দেয়া হয়েছিল ও আদালতে সব মামলাই মিথ্যা প্রমাণিত হয় এবং ৩১শে ডিসেম্বর ১৯৮৫সালে সব মামলায় জেল থেকে আমি জামিনে মুক্তি পাই।
রাজনৈতিক জীবন
১৯৬০সালে কালুরঘাট জুট মিলে চাকুরীরত অবস্থায় বাংলাদেশ আওয়ামী শ্রমিকলীগে যোগদান করি। ঐ সময় চট্টগ্রাম আঞ্চলিক শ্রমিকলীগের সভাপতি ছিলেন নোয়াখালীর মহসিন সাহেব। ৩রা ডিসেম্বর ১৯৮৫তে জেলখানা থেকে আসার পর সিটি মেয়র এ.বি.এম. মহিউদ্দীন চৌধুরী আমাকে বাড়ুবকুন্ড জোনের শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব অর্পন করেন এবং বড় দারোগারহাটের মো: ইসমাইল হোসেনকে সভাপতির দায়িত্ব দেন। আমাকে যখন সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেয়া হয়। তখন বাড়বকুন্ডের আনোয়ারা জুট মিল বন্ধ ছিল। এ.বি.এম. মহিউদ্দীন চৌধুরী এ মিলের মালিক ইসলাম চৌধুরী সাহেবের সাথে যোগাযোগ ও কথা বলে উক্ত মিলটি চালু করার ব্যবস্থা নিতে বলেন। আমি সভাপতি সাহেব-কে নিয়ে অনাহারে- অর্ধাহারে জীবনযাপনকারী এ মিলের প্রায় সাড়ে চার হাজার শ্রমিকদের জন্য মিলের গেটে একটি লঙ্গরখানা চালু করার ব্যবস্থা নিই। এভাবে সাড়ে চার হাজার শ্রমিক-কে প্রায় বার দিন খাওয়ানোর পর তের দিনের সময় আনোয়ারা জুট মিলের মালিক ইসলাম সাহেব এসে এ মিলটি চালু করলে আমি লঙ্গরখানা বন্ধ করে দিই। ১৯৯০সালে আমি শ্রমিকলীগের সাধারণ সম্পাদক থাকাকালীন অবস্থায় আমাকে সীতাকুন্ড থানা আওয়ামীলীগ এর সিনিয়র সহ-সভাপতির দায়িত্ব দেন। তখন থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি ছিলেন রহমত উল্লা। কিছু সংখ্যক দুষ্কৃতকারী রহমত উল্লা সাহেবের নিকট চাঁদা দাবী করলে তিনি চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় তাকে গুলি করে হত্যা করে। তার হত্যার পর সাংগঠনিকভাবে আমাকে সীতাকুন্ড থানা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি পদের দায়িত্ব দেন। আমি বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সীতাকুন্ড থানার ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করি এবং দলকে সুসংগঠিত করি। আমি দুই বছর দায়িত্ব পালন করার পর সীতাকুন্ড থানা আওয়ামীলীগের কাউন্সিল অধিবেশন হয়। ঐ কাউন্সিলে জনাব মোস্তফা কামাল চৌধুরী সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় আমি তাকে আমার উপর অর্পিত দায়িত্ব হস্তান্তর করি। আমি থানা আওয়ামীলীগের ১নং সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *