BIGtheme.net http://bigtheme.net/ecommerce/opencart OpenCart Templates
সংবাদ শিরোনাম
Home / প্রথম পাতা / শ্রেণিকক্ষে পাঠদান ও শিক্ষার্থীদের মনোযোগ বৃদ্ধির উপায়

শ্রেণিকক্ষে পাঠদান ও শিক্ষার্থীদের মনোযোগ বৃদ্ধির উপায়

মোঃ জাহাঙ্গীর আলম,সীতাকুণ্ড টাইমস, ০৩ ডিসেম্বর, ২০১৯::
প্রত্যেক নর নারীর উপর জ্ঞান অর্জন করা ফরজ। তোমরা দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত জ্ঞান করা। আর সেই জ্ঞান দিয়েই মানুষ আলেকিত সমাজ বিনির্মাণ করে ।
আর শিক্ষক হলো আলোকিত সেই সমাজ গড়ার সুনিপুণ কারিগর। শিক্ষকতা নিঃসন্দেহে একটি মহান পেশা। একজন ছাত্রকে কেবল শিক্ষিতই নয়, বরং ভাল মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার গুরু দায়িত্বটিও থাকে শিক্ষকের ওপর। তাই একজন শিক্ষককে হতে হয় অনেক বেশি সচেতন, অনেক বেশি ধৈর্যশীল। কিন্ডারগার্টেন পদ্ধতির উদ্ভাবক ফ্রেডরিক ফ্রয়েবেল এর মতে,‘শিশু হলো উদ্যানের চারাগাছ। শিক্ষক হলেন তার মালী। শিক্ষকের কাজ হলো সযত্নে চারাগাছটিকে বড় করে তোলা। শিশুর মধ্যে লুকিয়ে থাকা সৎ ও সামাজিক গুণাবলীর বিকাশ সাধন করা শিক্ষকের কর্তব্য’।

তবে শিক্ষাদান প্রক্রিয়া খুব একটা সহজ কাজ নয়। একটি শ্রেণিকক্ষে বিভিন্ন রকমের শিক্ষার্থী থাকে। তাদের মধ্যে কেউ একটি বিষয় সহজেই বুঝতে পারে, আবার কারও বুঝতে যথেষ্ট সময় লাগে। কেউ আবার বেশ চঞ্চল, কেউবা শান্ত স্বভাবের। কেউ খুব মনোযোগী, কেউ আবার একেবারেই মনোযোগ দিতে চায় না। এমন সব বিষয়ে একজন শিক্ষককে প্রতিনিয়ত খেয়াল রেখে শিক্ষার্থী পড়াতে হয়। বিশেষ করে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীর আগ্রহ শিক্ষকের দিকে রাখাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। জার্মান দার্শনিক জন হার্বার্ট শিক্ষা ক্ষেত্রে শিশুর আগ্রহকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর শিক্ষা পদ্ধতির মূল কথা ছিল, ‘পাঠ্যবিষয়কে এমনভাবে উপস্থাপন করতে হবে, যাতে শিক্ষার্থী সহজে তাকে গ্রহণ করতে পারে’।

অষ্টাদশ শতক থেকে বিভিন্ন দার্শনিক ও চিন্তাবিদ শিক্ষা বিষয়ে আধুনিক ভাবনাচিন্তা শুরু করেন। আধুনিক শিক্ষা ভাবনার প্রধান বৈশিষ্ট্য শিশু কেন্দ্রিকতা, অর্থাৎ শিক্ষা ক্ষেত্রে শিশুরাই সর্বাধিক গুরুত্ব পাবে। তার চাহিদা, সামর্থ্য, আগ্রহ, পছন্দ ও অপছন্দকে প্রাধান্য দিয়ে শিক্ষা ব্যবস্থাকে অধিকতর বিজ্ঞানসম্মত করে তোলার উপরে গুরুত্ব দেওয়া হয়। এই বিষয়ে সর্বপ্রথম কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেন ফরাসি চিন্তাবিদ রুশো। তিনি তাঁর এমিল উপন্যাসে কাল্পনিক শিশু এমিল এর শিক্ষাকে কেন্দ্র করে স্পষ্টভাবে তাঁর শিক্ষা দর্শন ব্যক্ত করেন। তাঁর মতে, ‘শিশুর প্রকৃতি অনুযায়ী শিক্ষাই হল আদর্শ ও সার্থক শিক্ষা। শিশুর জীবনের প্রথম ও প্রধান শিক্ষক হল প্রকৃতি। প্রকৃতির ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে শিশু যথার্থ শিক্ষা লাভ করতে পারে।’

শিক্ষা নিয়ে রুশোর চিন্তাধারা শিক্ষাক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সূচনা করে। যাদের হাত ধরে এই পরিবর্তনের সূচনা তাদের মধ্যে পেস্টালৎসি অন্যতম। পেস্টালৎসি মনোবিজ্ঞানের পাঠ না নিলেও শিশুদের সমস্যা অনুভব করেছিলেন। তিনি রুশোর এমিল এর আদর্শে নিজের সন্তানের শিক্ষার ব্যবস্থা করেন, নিজে দীর্ঘদিন শিক্ষকতা করেন এবং শিক্ষা বিষয়ে কয়েকটি বই লেখেন। তাঁর শিক্ষা দর্শনের বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:-

• শিক্ষাকে মনোবিজ্ঞানভিত্তিক করে তোলার চেষ্টা।
• শিক্ষাকে তিনি সামাজিক উন্নয়নের হাতিয়ার করে তুলতে চেয়েছেন; যা শিশুর দৈহিক, মানসিক ও নৈতিক বিকাশের পাশাপাশি বৃহত্তর সমাজেও কল্যাণকর সংস্কার ও পরিবর্তন নিয়ে আসে।
• মানবতার আবেদন। তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ লিওনার্ড অ্যান্ড গারট্রড এ তিনি বলেন,‘যারা দুঃখী, তাদের তিনি ভালবাসেন এবং তাদের মঙ্গলসাধনই তার জীবনব্রত।’
• শিশুর ব্যক্তিত্বের স্বাভাবিক বিকাশ প্রক্রিয়ার ওপর গুরুত্বারোপ। পেস্টালৎসির মতে, ‘আদর্শ শিক্ষা হল শিশুর সমস্ত শক্তির স্বাভাবিক প্রগতিশীল ও সুষম বিকাশ। শুধুমাত্র বই পড়ে বা তথ্য আহরণে এই শিক্ষা সম্পন্ন হতে পারে না।’
• প্রচলিত শিক্ষায়তনগুলির প্রথাবদ্ধ কৃত্রিম কঠোর বিধিনিষেধের শৃঙ্খলে আবদ্ধ পরিবেশের পরিবর্তে প্রীতি ও সহানুভূতিপূর্ণ এক সহজ পরিবেশ, যেখানে বিকাশোম্মুখ শিশুকলিটি তার সমস্ত সুরভি নিয়ে ফুটে উঠতে পারে।

অষ্টাদশ শতক বা তারও আগ থেকে আজ অব্দি শিক্ষা ব্যবস্থা কিংবা শিক্ষা প্রদান প্রক্রিয়া নিয়ে বিশিষ্ট জনেরা বিভিন্ন শিক্ষা ভাবনার উপর কাজ করে এসেছেন। বর্তমান সময়ে শিক্ষা ব্যবস্থার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দিক হচ্ছে শ্রেণিকক্ষ এবং শ্রেণিকক্ষে শিক্ষাদান পদ্ধতি। যেহেতু শিক্ষক-শিক্ষার্থীর মাঝে বেশ গুরুত্বপূর্ণ এবং অনেকটা সময় কাটে শ্রেণিকক্ষে; তাই শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের সঠিক ও কার্যকরী শিক্ষা প্রদান এবং সেই পাঠে শিক্ষার্থীদের মনোযোগী করে তোলা একজন শিক্ষকের জন্য খুবই গুরুত্বের।

শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ বৃদ্ধিতে একজন শিক্ষক যা যা করতে পারেনঃ

• শ্রেণিকক্ষের পরিবেশঃ একটি শ্রেণিকক্ষের গঠনগত বিন্যাস যদি সঠিক না হয় তাহলে সেটি কিছুটা হলেও শিক্ষক, শিক্ষার্থী, শিক্ষাদান এবং জ্ঞানার্জন ও বিতরণের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। শ্রেণিকক্ষে পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা দরকার। অন্ধকার বা নোংরা ক্লাসরুম শিক্ষার্থীর মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়। অন্ধকারাচ্ছন্ন গুমোট পরিবেশ শিক্ষার্থীদের মাঝে অস্থিরতা তৈরি করে। ফলে তারা অমনোযোগী হয়ে পড়ে। তাই শ্রেণিকক্ষের মেঝে, জানালা, দেয়াল, অ্যাকোস্টিক, চকবোর্ড, আসবাবপত্রসহ অন্যান্য সরঞ্জামাদি শিক্ষার্থীদের জন্য উপযোগী করে সাজানো দরকার।

• শিক্ষার্থীদের বসার স্থান নির্বাচনঃ বসার পদ্ধতির সাথে মনোযোগ ধরে রাখতে পারা নাপারার একটি সম্পর্ক রয়েছে। অনেকটা সময় মনোযোগ ধরে রাখতে গেলে কষ্ট করে বসে থেকে তা সম্ভব হয় না। তাই শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের সঠিক পদ্ধতিতে বা আরামদায়ক বসার স্থানের ব্যবস্থা করা উচিত।

• বোর্ডে পড়ার বিষয়বস্তু লিখে রাখাঃ একটু দেরিতে আসা বা অমনোযোগী কোন শিক্ষার্থীর মনোযোগ ফিরিয়ে আনতে এটি কাজ করবে।

• আই কন্টাক্ট করাঃ পড়ানোর সময় মাঝে মাঝে শিক্ষার্থীদের সাথে আই কন্ট্যাক্ট রাখার চেষ্টা করা এবং শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলার সময় তাদের চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলার চেষ্টা করলে তাদের মনোযোগ বৃদ্ধি পাবে।
• উদাহরণ সহকারে পড়ানোঃ কী পড়াচ্ছেন তা শিক্ষার্থীদের মাঝে সঠিকভাবে উপস্থাপনের ক্ষেত্রে উদাহরণের কোন বিকল্প নেই। উদাহরণের মাধ্যমে পড়ানো হলে শিক্ষার্থীরা পড়ানোর বিষয়বস্তু সহজে বুঝতে পারবে। ফলে তাদের মনোযোগও পাঠে কেন্দ্রীভূত হবে।

• সঠিক অঙ্গভঙ্গিঃ কারও সামনে বক্তৃতা দেওয়ার সময় সঠিক অঙ্গভঙ্গি মনোযোগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাছাড়া ক্লাসে পাঠদানের সময় এমন কোন অঙ্গভঙ্গি করা উচিত নয় যা দৃষ্টিকটু বা আপত্তিকর।
• সহজ ভাষায় বক্তব্য উপস্থাপনঃ সহজবোধ্য ভাষায় বোধগম্য উদাহরণের মাধ্যমে বক্তব্য উপস্থাপন করা উচিত। জটিল ভাষায় বুঝালে শিক্ষার্থীদের ভুলে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে এবং বিষয়টি জটিল হওয়ার কারণে তাদের মনোযোগও নষ্ট হতে পারে।

• শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন করতে দেওয়াঃ শিক্ষার্থীদের প্রচুর প্রশ্ন করার সুযোগ তৈরি করে দিতে হবে। শিক্ষার্থীরা যত বেশি প্রশ্ন করবে তত বেশি শিখবে এবং প্রশ্ন করার জন্য তাদের শিক্ষকের বক্তব্য শুনতে হবে। ফলে তারা পাঠে আরও মনোযোগী হয়ে উঠবে।

• অংশগ্রহণমূলক পড়াশোনাঃ শিক্ষক যদি ক্লাসে এসে লেকচার দিয়ে চলে যান, তাহলে পড়াশোনা আর মজার থাকে না। বর্তমান সময়ে সারাবিশ্বে অংশগ্রহণমূলক পড়াশোনার পদ্ধতিটিই বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। শিক্ষার্থীদের যদি ক্লাসেই একে অন্যের সঙ্গে আলাপ করার মাধ্যমে লেকচার নোট তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়, তবে তারা আর অমনোযোগী হয়ে বসে থাকতে পারবে না। এতে শক্তিশালী হবে একের সঙ্গে অন্যের যোগাযোগ ও পারস্পরিক সহায়তার বিষয়টিও।

• শিক্ষার্থীদের প্রশংসা করাঃ শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থী যদি কোন প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে বা তার যদি কোন বিশেষ গুণ থেকে থাকে তবে তা নিয়ে প্রশংসা করা উচিত। এতে করে তারা অনুপ্রাণিত হবে এবং শিক্ষকের বলা যেকোনো কথাই মনোযোগ দিয়ে শুনবে।

• হতাশাজনক কথা না বলাঃ নিজের ব্যক্তিগত হতাশার কথা বা শিক্ষার্থীদের নিয়ে কোন কারণে হতাশায় পড়ে গেলেও সেটা তাদের কাছে প্রকাশ করা উচিত নয়। বরাবরই তাদের আশার কথা শুনাতে হবে; স্বপ্ন দেখাতে হবে সুদূর ভবিষ্যতের। তাদের কখনোই বলা উচিত না তোমাদের দিয়ে কিছু হবে না। তারা একবার না বুঝলে ধৈর্য্য ধরে বার বার বুঝাতে হবে। তবেই তারা জীবনের প্রতি মনোযোগী হবে, শ্রেণিকক্ষেও মনোযোগ বাড়বে।

• শ্রেণিকক্ষে প্রোজেক্টর ব্যবহারঃ মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে বিজ্ঞান, গণিত বা ইতিহাসের নানা চিত্র বা ভিডিও ক্লাসে দেখালে শিক্ষার্থীরা বেশি তথ্য মাথায় রাখতে পারে। সেক্ষেত্রে প্রোজেক্টর ব্যবহারের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করানো যেতে পারে। গৎবাঁধা একই নিয়মে না পড়িয়ে বিভিন্ন কৌশলে পড়ালে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ বৃদ্ধি পাবে।

প্লেটো, অ্যারিস্টটল থেকে শুরু করে রুশো, হার্বার্ট, পেন্টালৎসি, ফেড্রিক ফ্লয়েবেল, ফ্রান্সিস পার্কার, মারিয়া মন্টেসরি, বার্ট্রান্ড রাসেল, রাজা রামমোহন রায় এর মত বিশিষ্টজনেরা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন শিক্ষাদান পদ্ধতি নিয়ে চর্চা করেছেন এবং তাঁদের হাত ধরে গোটা শিক্ষাদান পদ্ধতিতেই পরিবর্তন এসেছে। এর মধ্যে উনবিংশ শতকের শেষের দিকে আমেরিকায় ফ্রান্সিস পার্কার এক নতুন প্রগতিশীল শিক্ষা আন্দোলনের সূচনা করেন। তিনি তার স্কুলে শৃঙ্খলারক্ষার গতানুগতিক কৃত্রিম পদ্ধতি পরিহার করে, স্কুলের পরিবেশটি যথার্থ সমাজধর্মী করে তুলতে আগ্রহী হন। ফ্রান্সিস পার্কারের পর আমেরিকার প্রগতিশীল শিক্ষা আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন তার অনুগামী জন ডিউই। শিক্ষার পদ্ধতি নির্ণয়ের ক্ষেত্রে ডিউই শিক্ষার্থীর স্বাভাবিক সক্রিয়তাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর মতে,‘সত্য বা জ্ঞান কোনও নির্দিষ্ট বস্তু নয় যে শিক্ষক শিক্ষার্থীকে হাতে তুলে দিতে পারেন। বরং বাস্তব অভিজ্ঞতা ও প্রকৃত সমস্যা সমাধানের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীকে নিজেই তা আহরণ করতে হয়।’ তিনি তার শিক্ষাদান পদ্ধতিকে পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন; যেখানে প্রচলিত পদ্ধতির চেয়ার-টেবিল-বেঞ্চ দিয়ে সাজানো শ্রেণিকক্ষ, বক্তৃতার মাধ্যমে পাঠদান, নির্দিষ্ট সময়ের পিরিয়ড, পাঠ্য বিষয়ের বিভাজন, বাঁধাধরা পঠন-লিখন পদ্ধতির কিছুই ছিল না। পাঠ্যক্রম বলতে ছিল শিশুদের সৃজনধর্মী সক্রিয়তা যেমন খেলা, হাতের কাজ, প্রকৃতিবীক্ষণ ইত্যাদি এবং তার দ্বারা অভিজ্ঞতা অর্জন। এছাড়া উইলিয়াম কিলপ্যাট্রিক এর প্রজেক্ট মেথড, ইটালির মারিয়া মন্টেসরি-এর মন্টেসরি পদ্ধতি সে সময়ের উল্লেখযোগ্য শিক্ষা পদ্ধতি হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল। তারই ধারাবাহিকতায় সময়ের সাথে সাথে শিক্ষার মান ও শিক্ষাদান পদ্ধতির বিভিন্ন পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। তবে পরিবর্তন যাই আসুক না কেন, একটি বিষয় এখন সকলেই একমত যে সৃজনশীল উপায়ে পড়াশোনার মাধ্যমেই একজন শিক্ষার্থী প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে উঠতে পারে। আর একজন আদর্শ শিক্ষকের উচিত সৃজনশীল উপায়েই শিক্ষার্থীদের শ্রেণীকক্ষে পাঠদান প্রক্রিয়া পরিচালনা করা। শিক্ষক শুধু পাঠ্যবই পড়াবেন না; তিনি শিক্ষার্থীর মানসিক ও শারীরিক দুঃখ, ব্যথা, প্রয়োজন ও অসহায় অবস্থার কথা আন্তরিকভাবে উপলব্ধি করবেন এবং এগুলোর উৎকর্ষ সাধনে ব্রতী হবেন এটাই স্বাভাবিক। শিক্ষকগণ যেহেতু জ্ঞান আহরণ, লালন, অনুশীলন ও বিতরণে নেতৃত্ব দিয়ে থাকেন সেহেতু তিনি হবেন চিন্তা চেতনায়, মেধা মননে সম্পূর্ণ সৎ, নিরপেক্ষ, সহনশীল ও অগ্রগামী। শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড এবং শিক্ষক শিক্ষার মেরুদন্ড। দার্শনিক প্লেটোর মতে, ‘শিক্ষক হবেন ভাববাদী চিন্তার প্রত্যক্ষ ফসল, শিক্ষার মাধ্যমে তিনি শিক্ষার্থীর ব্যক্তিত্বকে বিকশিত করবেন। শিক্ষার্থীদের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি করা হলো শিক্ষকের দায়িত্ব।’
সূত্রঃ দৈনিক শিক্ষা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *